পলি ব্যাগে চারা উতপাদনঃ
মূলতত্বঃ
পলিব্যাগে চারা উৎপাদন একটি আধুনিক প্রযুক্তি যা তুলনামুলকভাবে সহজ ও সুবিধাজনক । এতে চারার যত্ন নেওয়া সহজ হয়। তাছাড়া চারা সহজে মরে না। চারা পরিবহন এবং রোপণ দরাও বেশ সহজ। তাই একটি আদর্শ নার্সারি গড়ে তোলাঁর জন্য পলিব্যাগে চারা উৎপাদন পদ্ধতি জেনে রাখা অতি প্রয়োজন।
প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
পলিথিন ব্যাগ, পচা গোবর, দোআঁশ মাটি , টিএসপি / এম ও পি সার, আবর্জনা পচা সার , বীজ কোদাল, ঝুড়ি, ঝাঁঝারি, মাটি চালুনি, মাটি শোধনের ওষুধ, পলিথিন সিট ইত্যাদি।
কাজের ধাপঃ
১। প্রথমে ৩০ কেজি দোআঁশ মাটি , ১৫ কেজি পচা গোবর, ১৫কেজি আবর্জনা পচা সার, ১০ কেজি টিএসপি ও ৫কেজি এমপি সার একত্রে ভালভাবে মিশিয়ে এই মিশ্রণ দেড় থেকে দুই মাস রেখে দাও।
২। সার মিশানোর পূর্বে মাটিকে জীবাণুমুক্ত করে লও।
৩। এরপর মিশ্রণযুক্ত মাটি দিয়ে পলিব্যাগ ভর্তি কর। ব্যাগের উপরে কিছু জায়গা ফাকা রাখ যাতে পানি সেচ ও আন্তঃপরিচর্যার সুবিধা হয়।
৪।প্রতি ব্যাগে “জো’’ অবস্থায় নির্বাচিত গাছের ২ টি করে বীজ বপন কর।
৫। নির্বাচিত নার্সারির স্থানে ৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১ মিটার প্রস্থের কয়েকটি বেড তৈরি কর।
৬। তারপর প্রতিটি বেডে উচু স্থানে লাইন করে পলি ব্যাগগুলো সাজিয়ে দাও।
৭। সাজানো পলিব্যাগের উপর এখন চালা দিয়ে দাও যাতে বৃষ্টি বা রোদ আঙ্কুরিত চারার ক্ষতি না করে।
৮। পলিব্যাগে উৎপাদিত চারায় প্রয়োজনমত ঝাঁঝারি দ্বারা পানি দাও ও আন্তঃ পরিচর্যা কর।
৯। পলিব্যাগে একাধিক চারা গজালে সুস্থ সবল চারাটি রেখে বাকিগুলো তুলে ফেল।
১০। পলিব্যাগ থেকে চারার শিকড় বের হয়ে আসলে কাঁচিদারা ছেঁটে দাও।
১১। চারায় রোগবালাই দেখা দিলে দমনের ব্যবস্থা কর।
১২। সবশেষে কাজের ধাপগুলো ব্যবহারিক খাতায় লেখ।
সাবধানতাঃ
১। পলিব্যাগের অতিরিক্ত পানি বের করার জন্য নিচের দিকে কয়েকটা ফুটা করে দাও।
২।পলিব্যাগ থেকে বের হয়ে আসা শিকড় ও অতিরিক্ত ডাল পালা কেটে দাও।
৩।রোপণ উপযোগী হলে চারাগুলো যথাসময়ে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩।রোপণ উপযোগী হলে চারাগুলো যথাসময়ে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।