বীজতলার মূলতত্তঃ
মূলতত্তঃ বীজতলা বলতে উত্তমভাবে তৈরিকৃত ছোট আকারের এক খন্ড জমিকে বোঝায় যেখানে বীজ বপন বা রোপন করলে উপযুক্ত পরিবেশ ও যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে রোপন উপযোগী চারা উৎপন্ন হয়। নার্সারিতে চারা তৈরির একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হল ভালভাবে বেড তৈরি করা। তা না হলে চারার সঠিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ফলে সুস্থ সবল চারা আশা করা যায় না । ব্যবহারিক পাঠের এ অংশে আদর্শ উদ্যান নার্সারির বেড তৈরি করার পদ্ধতি আলোচনা করা হলঃ
প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
ক) কোদাল খ) লাঙল গ) টেপ ঘ)খুঁটি ঙ)মই চ)রশি ছ) টুকরি জ) জোয়াল
কাজের ধারাঃ
১। প্রথমে বীজতলার জন্য পর্যাপ্ত আলোবাতাস এবং সেচ নিকাশের সুবিধাযুক্ত উচু জায়গা এবনফ দোআঁশ মাটি নির্বাচন কর।
২।এবার প্রয়োজন মত লাঙল ও মি দিয়ে জমি চাষ দিয়ে সমান কর এবং আগাছা পরিষ্কার কর।
৩।রশি, খুঁটি ও টেপের সাহায্যে ১ মি প্রস্থ ও ৩ মি দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট কয়েকটি খণ্ডে জমিটি বিভক্ত কর।
৪। দুটি বীজতলার মাঝে ৫০ সেমি এবং চার পাশে ২৫ সে মি জায়গা নালার জন্য রেখে দাও।
৫।দুটি বেডের মাঝখান থেকে মাটি তুলে প্রতিটি বেড ৭-১০ সে মি উচু কর।
৬। প্রতি ১মি * ৩মি বেডের জন্য ১৫-২০ কেজি পচা গোবর বা আবর্জনা পচা সার, ৩০ গ্রাম ইউরিয়া, ৩০গ্রাম টিএসপি ও ৩০গ্রাম এমপি সার ছিটিয়ে ভালভাবে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দাও।
৭। মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রস না থাকলে জীজ বোনার আগে পানি সেচ দিয়ে মাটিতে রসের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮। মাটি অম্ল প্রকৃতির হলে সামান্য পরিমাণে চুন যোগ কর।
৯। জমিতে মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ থাকলে বীজ বুনার আগে ওষুধ দ্বারা মাটি শোধন করে নাও।
১০। গবাদি পশুর আক্রমণ এড়ানোর জন্য বীজতলার চারপাশে বেড়া দাও।
১১। এরপর বীজতলার প্রতিটি বেডের উপরি ভাগ সমান করে বিজ বুনে দাও।
১২। বেডে পানির অভাব হলে নিয়মিতভাবে পানি সেচ দাও।।
সাবধানতাঃ
১। বীজতলার চারদিকে বেড়া দিতে হবে যেন কোন পশুপাখি বিজতলার কোন ক্ষতি না করে।
২। যথার্থ পরিমাণে সেচ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। বীজতলায় প্রয়োজনীয় আলো বাতাস প্রাপ্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। কাঁচা গোবর কোনভাবেই বীজতলায় ব্যবহার করা যাবে না।